আইসিজেতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শুনানি শুরু
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 13 Jan, 2026
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দ্বারা রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার দায়ের করা মামলার ঐতিহাসিক গণশুনানি সোমবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার মাধ্যমে মামলাটি এখন দীর্ঘ প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মূল বিচারিক পর্যায়ে (merits phase) প্রবেশ করল।
আগামী তিন সপ্তাহ ধরে আইসিজে-র বিচারকরা উভয় পক্ষের মৌখিক যুক্তি শুনবেন এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন। এই শুনানির মূল উদ্দেশ্য হলো মিয়ানমার 'গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তি বিষয়ক কনভেনশন'-এর আওতায় তাদের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা নির্ধারণ করা।
শুনানির শুরুতে আদালতের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি ইওয়াসাওয়া ইউজি বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরেন। এতে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার উভয় পক্ষ দুই দফায় তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে এবং রুদ্ধদ্বার কক্ষে সাক্ষীদের জবানবন্দি নেওয়া হবে।
গাম্বিয়ার পক্ষে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার মন্ত্রী দাওদা জালো আদালতে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "সবচেয়ে নৃশংস ও ভয়াবহ লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পর্যালোচনার পরই গাম্বিয়া এই মামলাটি দায়ের করেছে।"
দাওদা জালো জোর দিয়ে বলেন, "এই মামলাটি আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তাত্ত্বিক বা জটিল বিষয় নয়। এটি রক্ত-মাংসের মানুষের এবং তাদের জীবনের বাস্তব গল্প।"মামলার প্রেক্ষাপট
গাম্বিয়া ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই মামলাটি দায়ের করে। এতে অভিযোগ করা হয় যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বা 'তাতমাদাও' ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে তথাকথিত "ক্লিয়ারেন্স অপারেশন"-এর নামে গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। ওই সময় ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং অন্যান্য নির্যাতনের মুখে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান এই ঘটনাকে "জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ" হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে এবং মিয়ানমারের অভ্যন্তরেও অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
দায়মুক্তি ও জবাবদিহিতা
আদালতে গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দাওদা জালো উল্লেখ করেন, মিয়ানমার এখনও "নৃশংসতা ও দায়মুক্তির চক্রে" আটকে আছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকেই এখনও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি। তিনি ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দায়মুক্তি বজায় থাকলে নৃশংস অপরাধের পুনরাবৃত্তি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মিয়ানমার তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। শুনানি শেষ হওয়ার পর আদালতের চূড়ান্ত রায় আসতে কয়েক মাস বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, আইসিজে জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা এবং এর রায় আইনত বাধ্যতামূলক। যদিও এটি কোনো ফৌজদারি আদালত নয় এবং কোনো ব্যক্তিকে বিচার করে না, বরং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা নিরূপণ করে।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

